দিনের শুরুটা মিষ্টি করে তুলতে এক টুকরো চকলেটই যথেষ্ট। কারণ আজ চকলেট ডে। ভ্যালেন্টাইন সপ্তাহের তৃতীয় দিন হিসেবে প্রতি বছর ৯ ফেব্রুয়ারি বিশ্বজুড়ে ভালোবাসা আর আনন্দের প্রতীক হিসেবে চকলেট আদান-প্রদানের মাধ্যমে দিনটি উদযাপন করা হয়।
ভালোবাসার মানুষটির জন্য তার পছন্দের এক বাক্স চকলেট হতে পারে অনুভূতি প্রকাশের সুন্দর মাধ্যম। বন্ধুদের সঙ্গে ভাগ করে নেওয়া কিংবা নিজেকেই ভালোবেসে উপহার দেওয়া—সব ক্ষেত্রেই চকলেট ডে এনে দেয় একরাশ মিষ্টি আনন্দ।
এই বিশেষ দিনে চলুন জেনে নিই চকলেট সম্পর্কে কিছু চমকপ্রদ তথ্য—
এক সময় চকলেটকে মনে করা হতো ঈশ্বরের খাবার। ইতিহাসবিদদের মতে, খ্রিষ্টপূর্ব প্রায় ৫০০ অব্দে চকলেটের এমন ধারণা প্রচলিত ছিল। চকলেট তৈরির মূল উপাদান কোকোয়া, যার শব্দমূল এসেছে ‘কাকাওয়া’ থেকে। মধ্য আমেরিকায় বসবাসকারী ওলমেক জাতিগোষ্ঠী প্রথম এই নাম ব্যবহার করে। মায়া সভ্যতায় চকলেট ছিল অভিজাতদের পানীয়, সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে। তবে ইউরোপীয়দের মাধ্যমে মায়া সভ্যতার সঙ্গে পরিচয়ের পর চকলেট ধীরে ধীরে সবার প্রিয় খাদ্যে পরিণত হয়।
গবেষণায় দেখা গেছে, কোকোয়াতে রয়েছে ফ্ল্যাভানল নামের শক্তিশালী অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট, যা মস্তিষ্কে রক্ত সঞ্চালন স্বাভাবিক রাখতে সহায়তা করে এবং স্মৃতিশক্তি উন্নত করে। চকলেটে কোকোয়ার পরিমাণ যত বেশি, শরীরের জন্য ততই উপকারী। এ কারণেই ডার্ক চকলেটকে তুলনামূলকভাবে বেশি স্বাস্থ্যকর বলা হয়।
মন খারাপের মুহূর্তে চকলেট খেলে মন ভালো হয়ে যায়—এর পেছনেও রয়েছে বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা। চকলেটে থাকা ম্যাগনেসিয়াম শরীরকে শিথিল করে এবং অ্যানানডামাইড নামের এক ধরনের নিউরোট্রান্সমিটার আনন্দের অনুভূতি তৈরি করে।
তাই আজ চকলেট ডেতে মিষ্টি স্বাদে ভালোবাসা ছড়িয়ে দিন—নিজের জন্য, প্রিয়জনের জন্য, কিংবা বন্ধুদের সঙ্গে ভাগ করে নিয়ে।