Chief TV - Leading online news portal of Bangladesh.

collapse
Home / লাইফস্টাইল / শবেবরাতে হালুয়া-রুটির প্রচলন যেভাবে হলো - Chief TV

শবেবরাতে হালুয়া-রুটির প্রচলন যেভাবে হলো - Chief TV

2026-02-03  ডেস্ক রিপোর্ট  30 views
শবেবরাতে হালুয়া-রুটির প্রচলন যেভাবে হলো - Chief TV

পবিত্র শাবান মাসের ১৪ তারিখ রাত মুসলিম ধর্মপ্রাণদের জন্য বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ—এ রাতকে বলা হয় শবে বরাত। মুসলিমদের বিশ্বাস অনুযায়ী, এই রাত মহান আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের জন্য নফল ইবাদত ও বন্দেগির মাধ্যমে অতিবাহিত করা হয়। দিনভর নানা প্রস্তুতি ও আয়োজন থাকে, এবং সন্ধ্যা নামলে শুরু হয় রাতভর ইবাদত। ভোরে ফজর নামাজ আদায় করে শেষ হয় এই পবিত্র ইবাদত।

শবে বরাতের দিন মুসলিম পরিবারের ঘরে ঘরে বিশেষ আয়োজন থাকে। খাবারের মধ্যে সবচেয়ে জনপ্রিয় হলো হালুয়া ও রুটি। এই খাবার শুধুমাত্র নিজের জন্য নয়; প্রতিবেশী, আত্মীয় ও বন্ধুদের সঙ্গে ভাগাভাগি করার রীতি আছে। যদিও এটি কোনো ধর্মীয় প্রথার অংশ নয়, তবে পবিত্র দিনে আনন্দ ভাগাভাগি করার মূল উদ্দেশ্য বহন করে।

ইতিহাসবিদদের মতে, শবে বরাতের রাতে হালুয়ার প্রচলন মূলত মিষ্টি খাদ্যের কারণে। বাংলাদেশে শবে বরাত পালন শুরু হয় ১৯শ শতকের শেষ দিকে। ঢাকার নবাবরা বড় আয়োজনে শবে বরাত পালন করতেন, যার মধ্যে আলোকসজ্জা, মিষ্টি বিতরণ এবং ঘরে-ঘরে হালুয়া তৈরি করা অন্তর্ভুক্ত ছিল। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে হালুয়া ও রুটির প্রচলন সাধারণ মানুষের মধ্যে জনপ্রিয় হয়ে ওঠে।

নবাবদের সামাজিক ও ধর্মীয় আধিপত্যের সঙ্গে মিলিয়ে এই রাতে উৎসবের আয়োজন করা হতো। পাকিস্তান আমলে শবে বরাতের দিন সরকারি ছুটি থাকায় উদযাপনের মাত্রা আরও বৃদ্ধি পেয়েছিল। এছাড়া রাসুলুল্লাহ (সা.) মিষ্টি খেতে পছন্দ করতেন, এবং উম্মতরাও এই প্রথা অনুসরণ করে আজও শবে বরাতে ইবাদতের সঙ্গে মিষ্টি খাবার খাওয়ার রীতি পালন করে।

শবে বরাত শুধুমাত্র ইবাদতের রাত নয়, বরং সামাজিক এবং ঐতিহ্যগত দিক থেকেও বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। এটি মুসলমানদের মধ্যে আত্মীয়-স্বজন ও প্রতিবেশীর সঙ্গে আনন্দ ভাগাভাগির একটি রীতি হিসেবে জীবন্ত রয়েছে।


Share: