পাকিস্তান সরকার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ঘোষণা দিয়েছে যে, চলতি মাসের শেষ দিকে ভারতের সঙ্গে হওয়া পুরুষদের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ম্যাচে পাকিস্তানের দল মাঠে নামবে না। তবে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি) এই সিদ্ধান্ত আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি)-কে আনুষ্ঠানিকভাবে জানাতে প্রস্তুত নয়।
টেলিকম এশিয়া স্পোর্টসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভারতের বিপক্ষে ম্যাচ বর্জন পিসিবির জন্য সরকারের নির্দেশ এবং তারা অনিশ্চয়তা বজায় রাখতে ইচ্ছাকৃতভাবে আইসিসিকে কোনো চিঠি দেবে না। পিসিবির এক সূত্র জানায়, “যেহেতু এটি সরকারের সিদ্ধান্ত এবং সরকারি প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে ঘোষণা করা হয়েছে, আইসিসিকে আলাদা করে চিঠি দেওয়ার কোনো প্রয়োজন নেই।”
পাকিস্তান প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফের সরকার রোববার ভারত ও শ্রীলংকার যৌথ আয়োজনে ফেব্রুয়ারি ৭ থেকে মার্চ ৮ পর্যন্ত অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে পাকিস্তানের অংশগ্রহণ অনুমোদন দিয়েছে। তবে ভারতের সঙ্গে খেলার অনুমোদন নেই।
পিসিবির এক কর্মকর্তা আরও বলেছেন, “ভারত কি কখনও আইসিসিকে লিখিতভাবে জানিয়েছিল যে তারা পাকিস্তানে যাবে না? যখন ভারতকে চিঠি দেখাতে বলা হয়েছিল, তখনও তারা তা দেয়নি। তাই এখন লিখিতভাবে জানানোর কোনো প্রয়োজন নেই।”
আইসিসি ইতিমধ্যে পিসিবিকে সম্ভাব্য গুরুতর পরিণতি সম্পর্কে সতর্ক করেছে। যদি পাকিস্তান খেলায় না অংশ নেয়, তা হলে আইসিসি ও সরকারি সম্প্রচারকারী সংস্থার আর্থিক ক্ষতির সম্ভাবনা রয়েছে এবং বিষয়টি আদালত পর্যন্ত যেতে পারে। তবে পাকিস্তান সরকার আইনি পরামর্শ নিয়ে পিসিবিকে আইসিসির সম্ভাব্য পদক্ষেপের বিরুদ্ধে সমর্থন দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।
রোববার লাহোরে পিসিবি চেয়ারম্যান মহসিন নাকভি প্রধানমন্ত্রী ও সাবেক পিসিবি প্রধান নাজাম শেঠির সঙ্গে বৈঠক করেন। শেঠি প্রধানমন্ত্রীকে ভারতের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন।
সোমবার পাকিস্তান দল কলম্বো উদ্দেশে রওনা দেয় এবং সন্ধ্যায় শ্রীলংকায় পৌঁছায়। পিসিবি জানিয়েছে, আইসিসির যেকোনো বৈঠকে তারা শক্ত অবস্থান নেবে এবং প্রয়োজনে একজন আইনজীবীকেও বৈঠকে উপস্থিত রাখবে।