দেশের ক্রিকেট ব্যবস্থার উন্নয়নে বড় ধরনের পুনর্গঠনের উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। এর অংশ হিসেবে অনূর্ধ্ব-২৩ পর্যায়ের জন্য ন্যাশনাল ক্রিকেট অ্যাকাডেমি চালু এবং দেশের বিভিন্ন স্থানে নতুন ক্রিকেট হাব স্থাপনের পরিকল্পনা ঘোষণা করেছে সংস্থাটি।
বুধবার শের-ই-বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত এক বিস্তৃত আলোচনা সভার পর এসব সিদ্ধান্ত জানানো হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন বিসিবি সভাপতি আমিনুল ইসলাম। উপস্থিত ছিলেন বোর্ড পরিচালক, কোচিং স্টাফ, নির্বাচক ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
বিসিবির লক্ষ্য হলো গ্রাসরুট ক্রিকেট শক্তিশালী করা, বয়সভিত্তিক প্রতিযোগিতা উন্নত করা এবং খেলোয়াড় ও কোচদের দীর্ঘমেয়াদি বিকাশ নিশ্চিত করা। সভায় অনূর্ধ্ব-২৩ ক্রিকেটারদের জন্য ন্যাশনাল ক্রিকেট অ্যাকাডেমি প্রোগ্রাম চালুর প্রস্তাব গৃহীত হয়, যা বৃহত্তর উন্নয়ন কাঠামোর অংশ হিসেবে বাস্তবায়ন করা হবে।
বিসিবি জানায়, বয়সভিত্তিক নির্বাচনের পদ্ধতি ও বয়স যাচাই প্রক্রিয়া নতুন করে মূল্যায়নের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরা হয়েছে, যাতে পুরো ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা ও বিশ্বাসযোগ্যতা নিশ্চিত করা যায়। পাশাপাশি সফলভাবে খেলোয়াড় তৈরি করা কোচদের জন্য প্রণোদনা চালুর বিষয়েও আলোচনা হয়েছে।
এছাড়া ঘরোয়া ক্রিকেটে অংশ নেওয়া সব খেলোয়াড়কে অন্তর্ভুক্ত করে একটি সমন্বিত ডাটাবেস তৈরির পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে, যা দীর্ঘমেয়াদি পারফরম্যান্স পর্যবেক্ষণে সহায়ক হবে। জেলা ও বিভাগীয় কোচদের বেতন কাঠামো, পেশাগত উন্নয়ন এবং ক্যারিয়ার পথ নির্ধারণ নিয়েও আলোচনা হয়। কোচিং ও গেম এডুকেশন কারিকুলাম পর্যালোচনার জন্য একটি রিভিউ কমিটি গঠনের সিদ্ধান্তও নেওয়া হয়েছে।
এদিকে দেশের আটটি স্থানে ক্রিকেট হাব স্থাপনের ঘোষণা দিয়েছে বিসিবি। খুলনা, বরিশাল, ফতুল্লা, কক্সবাজার, বগুড়া, রাজশাহী, বিএসকেপি ও পূর্বাচলে এসব হাব গড়ে তোলা হবে। প্রথম ধাপে মোট ১৩৭টি উইকেট প্রস্তুত করা হবে, যা মে–জুনের মধ্যে শেষ হওয়ার কথা।
পরিকল্পনা অনুযায়ী খুলনায় ১৫টি, বরিশালে ২৩টি, কক্সবাজারে ৮টি, বগুড়ায় ১০টি, রাজশাহীতে ১২টি, ফতুল্লায় ১৩টি, বিএসকেপির ৩ ও ৪ নম্বর মাঠে ১৯টি এবং পূর্বাচলে ১৩টি উইকেট নির্মাণ করা হবে। প্র্যাকটিস ও ম্যাচ উইকেটসহ আউটার গ্রাউন্ডও থাকবে এসব হাবে।
বিসিবি পরিচালক আবদুর রাজ্জাক বলেন, এই উদ্যোগ সফল হলে আগামী মৌসুম থেকেই ঢাকার বাইরের জেলা লিগ আয়োজন অনেক সহজ হয়ে যাবে।