আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে আরও একটি জনমত জরিপ প্রকাশ করা হয়েছে। বুধবার দুপুরে রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে জরিপের ফলাফল তুলে ধরা হয়।
জরিপে অংশ নেওয়া ভোটারদের মধ্যে ৯০ শতাংশের বেশি জানিয়েছেন, তারা এবারের নির্বাচনে ভোট দেবেন। আগে আওয়ামী লীগকে ভোট দেওয়া ভোটারদের ৪৮ দশমিক ২ শতাংশ এবার বিএনপিকে ভোট দেওয়ার কথা জানিয়েছেন। একই শ্রেণির ভোটারদের মধ্যে ২৯ দশমিক ৯ শতাংশ জামায়াতকে, ৬ দশমিক ৫ শতাংশ জাতীয় নাগরিক পার্টিকে (এনসিপি) ভোট দিতে পারেন বলে জানান। এছাড়া ১৩ শতাংশ অন্য দলকে ভোট দেওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছেন এবং ২ দশমিক ৪ শতাংশ এখনও সিদ্ধান্তহীন।
আরও ৮ শতাংশ ভোটার জানিয়েছেন, তারা ভোট দেওয়ার বিষয়ে অনিশ্চিত কিংবা নির্বাচনে অংশ নেওয়ার পরিকল্পনা করছেন না।
সিআরএফের স্ট্র্যাটেজিক কো-অর্ডিনেটর জাকারিয়া পলাশ জানান, দেশের ৬৪ জেলার ১৮০টি সংসদীয় আসনে এই জরিপ পরিচালনা করা হয়েছে। এতে অংশ নেন মোট ১১ হাজার ৩৮ জন ভোটার। ২০২৫ সালের ২০ নভেম্বর থেকে ২০২৬ সালের ৩১ জানুয়ারি পর্যন্ত দুই ধাপে জরিপটি সম্পন্ন হয়।
জরিপে দেখা যায়, ৬৭ দশমিক ৩ শতাংশ ভোটার ভোট দেওয়ার ক্ষেত্রে দুর্নীতিকে প্রধান বিবেচ্য হিসেবে দেখবেন। আর ৩৫ দশমিক ৯ শতাংশ ভোটার ধর্মীয় বিষয়কে গুরুত্ব দেওয়ার কথা জানিয়েছেন।
২০০৮ সালের পর প্রথমবার ভোট দিতে যাচ্ছেন—এমন ভোটারদের মধ্যে ৩৭ দশমিক ৪ শতাংশ জামায়াতকে ভোট দেওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন। ২৭ শতাংশ বিএনপিকে, ১৭ শতাংশ এনসিপিকে ভোট দিতে পারেন বলে জানান। আর ১৮ দশমিক ৬ শতাংশ এখনও সিদ্ধান্ত নেননি।
সংবাদ সম্মেলনে সভাপতিত্ব করেন সিআরএফের সহসভাপতি ও শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক সাহাবুল হক। তিনি বলেন, এবারের নির্বাচনে ভোট দেওয়ার ক্ষেত্রে জনগণের আগ্রহ অতীতের যেকোনো সময়ের তুলনায় বেশি।
উল্লেখ্য, এর আগে ৩০ জানুয়ারি প্রকাশিত ইনোভেশন কনসাল্টিংয়ের আরেকটি জরিপেও উচ্চ ভোটগ্রহণের আভাস পাওয়া যায়। ওই জরিপে ৯৩ দশমিক ৩ শতাংশ উত্তরদাতা জানান, তারা ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে ভোট দেবেন। সেখানে সাবেক আওয়ামী ভোটারদের ৩২ দশমিক ৯ শতাংশ বিএনপিকে, ১৩ দশমিক ২ শতাংশ জামায়াতকে ভোট দেওয়ার সম্ভাবনার কথা বলেন। আর ৪১ দশমিক ৩ শতাংশ ছিলেন সিদ্ধান্তহীন।