সিলেটের হযরত শাহজালাল (রহ.)-এর মাজারে নিজের ব্যক্তিগত তহবিল থেকে ৫ লাখ টাকা দান করেছেন সদ্য বিদায়ী জেলা প্রশাসক (ডিসি) মো. সারওয়ার আলম। সোমবার (২২ জুন) বিকেলে মাজারের সোনালী ব্যাংকের অ্যাকাউন্টে জেলা প্রশাসনের ফান্ডের মাধ্যমে এই অর্থ জমা করা হয়।
বিদায়বেলায় তার এই অর্থ প্রদানের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন সিলেটের জেলা প্রশাসন কার্যালয়ের সাধারণ শাখার সহকারী কমিশনার তানভীর হোসাইন সজীব।
তিনি জানান, মাজারের দানবাক্সগুলো থেকে উদ্ধার হওয়া নগদ ১৭ লাখ ৬৫ হাজার ৫৪৯ টাকা সোনালী ব্যাংকের হিসাবে জমা দেওয়ার সময় বিদায়ী ডিসি স্যার নিজের পক্ষ থেকে আরও ৫ লাখ টাকা যুক্ত করেন, যার ফলে মাজারের অ্যাকাউন্টে এখন মোট ২২ লাখ ৬৫ হাজার ৫৪৯ টাকা জমা পড়েছে।
এর আগে, হযরত শাহজালাল (রহ.)-এর মাজারের দীর্ঘ সাতশ বছরের প্রচলিত রীতি ভেঙে প্রথমবারের মতো দানবাক্সে জমা পড়া টাকার হিসাব প্রকাশ্যে এনে ব্যাপক রোষানলে পড়েন মো. সারওয়ার আলম।
এর আগে, হযরত শাহজালাল (রহ.)-এর মাজারের দীর্ঘ সাতশ বছরের প্রচলিত রীতি ভেঙে প্রথমবারের মতো দানবাক্সে জমা পড়া টাকার হিসাব প্রকাশ্যে এনে ব্যাপক রোষানলে পড়েন মো. সারওয়ার আলম।
এর জের ধরে গত রোববার (২১ জুন) জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের এক প্রজ্ঞাপনে তাকে সিলেটের জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের পদ থেকে আকস্মিক প্রত্যাহার করা হয়। তবে দায়িত্ব থেকেBlueprint বা প্রত্যাহৃত হলেও মাজারের দানের টাকার স্বচ্ছতা নিশ্চিতের যে উদ্যোগ তিনি নিয়েছিলেন, তা সম্পন্ন করেই ছাড়েন।
সোমবার টানা চার ঘণ্টা ধরে চলা গণনার কাজ শেষে গত ৪ দিনে দানবাক্সগুলোতে জমা পড়া মোট অর্থ ও স্বর্ণালঙ্কারের আনুষ্ঠানিক হিসাব প্রকাশ করা হয়। সন্ধ্যায় ওয়াকফ কর্মকর্তা সজল মিয়া ঘোষণা করেন, জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে স্থাপিত ৩টি ডেগ ও ১টি দানবাক্স খুলে নগদ ১৭ লাখ ৬৫ হাজার ৫৪৯ টাকা এবং ৭ আনা সোনা পাওয়া গেছে।
এদিকে বদলির আদেশ আসার পর আজ মঙ্গলবার নিজের ভেরিফাইড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে সিলেটবাসীকে উদ্দেশ্য করে একটি আবেগঘন বার্তা দিয়েছেন সদ্য বিদায়ী ডিসি মো. সারওয়ার আলম। মাত্র কয়েকদিনের দায়িত্ব পালনকালে সিলেটের মানুষের কাছ থেকে পাওয়া সহযোগিতার কথা স্মরণ করে তিনি লেখেন, ‘বিদায় সিলেট।
এদিকে বদলির আদেশ আসার পর আজ মঙ্গলবার নিজের ভেরিফাইড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে সিলেটবাসীকে উদ্দেশ্য করে একটি আবেগঘন বার্তা দিয়েছেন সদ্য বিদায়ী ডিসি মো. সারওয়ার আলম। মাত্র কয়েকদিনের দায়িত্ব পালনকালে সিলেটের মানুষের কাছ থেকে পাওয়া সহযোগিতার কথা স্মরণ করে তিনি লেখেন, ‘বিদায় সিলেট।
ভালো থাকুন সিলেটবাসী। আপনাদের ভালোবাসায় আমি ধন্য।’ মাজারের দান প্রক্রিয়ায় সচ্ছতা আনার এই সাহসী উদ্যোগ এবং বিদায়লগ্নে বিপুল অঙ্কের এই অনুদান জেলাজুড়ে সাধারণ মানুষের মাঝে ব্যাপক প্রশংসা ও আলোচনার জন্ম দিয়েছে।