Chief TV - Leading online news portal of Bangladesh.

collapse
Home / ঢাকা বিভাগ / সারাদেশ / শরীয়তপুর / পদ্মায় ৫০ ড্রেজারে বালু উত্তোলনের অভিযোগ বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে - chief tv

পদ্মায় ৫০ ড্রেজারে বালু উত্তোলনের অভিযোগ বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে - chief tv

2026-06-28  ডেস্ক রিপোর্ট  40 views
পদ্মায় ৫০ ড্রেজারে বালু উত্তোলনের অভিযোগ বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে - chief tv
শরীয়তপুরের নড়িয়ায় পদ্মার বুকে প্রায় ৫০টি ড্রেজার বসিয়ে প্রকাশ্যে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় এক বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে। অতীতে পদ্মার প্রলয়ংকরী ভাঙনে ঘরবাড়ি, হাসপাতাল ও বিস্তীর্ণ জনপদ হারিয়ে নিঃস্ব হওয়া নড়িয়াবাসীর মনে এই ঘটনার পর নতুন করে তীব্র আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।
 
অপরিকল্পিতভাবে এই বালু উত্তোলনের ফলে নদীর তলদেশের স্বাভাবিক ভারসাম্য নষ্ট হচ্ছে, যার কারণে বসারচর ও চরআত্রা মৌজার অন্তত ৫ হাজার একর ফসলি জমি এখন চরম ভাঙন ঝুঁকিতে পড়েছে।
 
স্থানীয়দের অভিযোগ, নড়িয়া উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ফরিদ আহমেদ রয়েলের নেতৃত্বে একটি প্রভাবশালী চক্র দীর্ঘদিন ধরে নদী থেকে বালু তুলে ঢাকা, চাঁদপুর, নারায়ণগঞ্জসহ বিভিন্ন জেলায় চড়া দামে বিক্রি করছে।

সরেজমিনে দেখা যায়, বসারচর এলাকায় পদ্মার তীরঘেঁষা নদীপথজুড়ে সারিবদ্ধভাবে অসংখ্য ড্রেজার বসিয়ে দিন-রাত বিকট শব্দে বালু কাটা হচ্ছে। প্রতিদিন ভোর থেকে রাত পর্যন্ত অন্তত ৫০টি ড্রেজার একযোগে কাজ করছে এবং প্রতিটি ড্রেজার থেকে দৈনিক ২৫ থেকে ৩০টি বাল্কহেডে বালু লোড করা হচ্ছে।
 
পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, ২০১৩ থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত ভয়াবহ ভাঙনে নড়ইয়ার ২৫ হাজার পরিবার গৃহহীন হওয়ার পর প্রায় ১ হাজার ৪১৭ কোটি টাকা ব্যয়ে ১০.২ কিলোমিটার দীর্ঘ নদী রক্ষা বাঁধ নির্মাণ করা হয়েছিল।
 
সেই প্রকল্পের আওতায় নদী খননের সময় উত্তোলিত বালু বসারচরের ফসলি জমিতে স্তূপ করে রাখা হয়। পরবর্তীতে নড়িয়া উপজেলা প্রশাসন ওই স্তূপকৃত বালু বিক্রির জন্য নিলাম ডাকলে ‘তাসিন তাহান কন্সট্রাকশন’-এর মাধ্যমে প্রায় ৫ কোটি ৮৮ লাখ টাকায় তা কিনে নেন বিএনপি নেতা ফরিদ আহমেদ রয়েল।
 
তবে স্থানীয়দের দাবি, নিলামের সেই স্তূপকৃত বালুর আড়ালে এখন সরাসরি নদীর তলদেশ থেকেই ড্রেজার দিয়ে নতুন করে বালু লুঠ করা হচ্ছে।

অবশ্য সব অভিযোগ অস্বীকার করে নড়িয়া উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ফরিদ আহমেদ রয়েল দাবি করেছেন, তিনি সম্পূর্ণ বৈধভাবে নিলামে কেনা বালু উত্তোলন করছেন এবং নদীর তলদেশ থেকে কোনো বালু কাটা হচ্ছে না; কেবল বাল্কহেড চলাচলের সুবিধার জন্য সীমিত আকারে চ্যানেল করা হচ্ছে।
 
তবে চরের স্তূপীকৃত বালু কাটার নামে নদীর ভেতরে কেন এত বিপুলসংখ্যক ড্রেজার বসানো হয়েছে— তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন ভুক্তভোগী এলাকাবাসী। এ বিষয়ে নড়িয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আব্দুল কাইয়ুম স্পষ্ট জানিয়েছেন, নিলাম কেবল চরের স্তূপীকৃত বালু অপসারণের জন্য দেওয়া হয়েছে, কোনো অবস্থাতেই নদী থেকে বালু উত্তোলনের অনুমতি নেই এবং বিষয়টি খতিয়ে দেখে দ্রুত আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
 
অন্যদিকে জেলা বিএনপির সভাপতি ও শরীয়তপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য সফিকুর রহমান কিরণ হুশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, সরকারি নিয়ম অমান্য করে বালু উত্তোলন করলে সে যে দলেরই হোক তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে, দলীয় প্রভাব খাটিয়ে কোনো অনিয়মের সুযোগ দেওয়া হবে না।

Share: