Chief TV - Leading online news portal of Bangladesh.

collapse
Home / আন্তর্জাতিক / এপস্টেইন নথি নিয়ে তোলপাড় বিশ্ব - Chief TV

এপস্টেইন নথি নিয়ে তোলপাড় বিশ্ব - Chief TV

2026-02-03  ডেস্ক রিপোর্ট  43 views
এপস্টেইন নথি নিয়ে তোলপাড় বিশ্ব - Chief TV

মার্কিন ধনকুবের, যৌন নিপীড়নের অভিযোগে অভিযুক্ত ও নারী পাচারকারী জেফরি এপস্টেইনকে ঘিরে বিশ্বজুড়ে তোলপাড় শুরু হয়েছে। তাকে নিয়ে মার্কিন বিচার বিভাগের প্রকাশিত নথিতে একের পর এক বেরিয়ে আসছে বিশ্বনেতা, ধনকুবের ও সেলিব্রেটিদের নাম।

তালিকায় রয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প, ব্রিটিশ রাজপরিবারের সদস্য প্রিন্স অ্যান্ড্রু, মাইক্রোসফটের সহপ্রতিষ্ঠাতা বিল গেটস, প্রযুক্তি উদ্যোক্তা ইলন মাস্ক, সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিন্টন, পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিলারি ক্লিনটন এবং ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি—সহ আরও অনেকে। এসব ব্যক্তির কয়েকজনের বিরুদ্ধে এপস্টেইনের সহায়তায় বিবাহবহির্ভূত সম্পর্কে জড়ানোর অভিযোগও উঠে এসেছে।

এদিকে মার্কিন বিচার বিভাগ কোনো সম্পাদনা ছাড়াই তাদের ওয়েবসাইটে ডজনখানেক তরুণীর স্পষ্ট ছবি প্রকাশ করেছে, যেখানে মুখমণ্ডল পরিষ্কারভাবে দেখা যায়। এসব ছবি জেফরি এপস্টেইন–সংক্রান্ত নথিপত্রের অংশ হিসেবে সংরক্ষিত ছিল। ‘এপস্টেইন ফাইলস’ প্রকাশের বাধ্যবাধকতার অংশ হিসেবে এসব ছবির পরিচয় গোপন করার দায়িত্ব ছিল ফেডারেল সরকারের।

শুক্রবার বিচার বিভাগের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত ৩০ লাখের বেশি পৃষ্ঠা পর্যালোচনা করতে গিয়ে নিউইয়র্ক টাইমস প্রায় ৪০টি স্পষ্ট ছবি শনাক্ত করে। ছবিগুলোর কিছুতে সমুদ্রসৈকত ও এপস্টেইনের ব্যক্তিগত দ্বীপের দৃশ্য দেখা যায়। অন্য কিছু ছবি তোলা হয়েছে শোবার ঘর ও ব্যক্তিগত স্থানে। ছবির ব্যক্তিরা তরুণ মনে হলেও তারা অপ্রাপ্তবয়স্ক কি না—তা নিশ্চিত নয়।

মার্কিন সরকারের আইনজীবীরা কয়েক সপ্তাহ ধরে ‘এপস্টেইন ফাইলস ট্রান্সপারেন্সি অ্যাক্ট’-এর শর্ত পূরণে তড়িঘড়ি করে কাজ করছিলেন। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে এসব নথি প্রকাশের সময়সীমা নির্ধারিত ছিল।

নিউইয়র্ক টাইমস বিষয়টি জানালে বিচার বিভাগের এক মুখপাত্র বলেন,
“ভুক্তভোগীদের উদ্বেগ ও ব্যক্তিগতভাবে শনাক্তযোগ্য তথ্য—বিশেষ করে যৌন প্রকৃতির ছবি—সরাতে বিভাগ দিন-রাত কাজ করছে। সম্পাদনা শেষ হলে নথিগুলো আবার অনলাইনে প্রকাশ করা হবে।”

গত ১৯ ডিসেম্বরের মধ্যেই এপস্টেইনের সব ফাইল প্রকাশ করার কথা ছিল। তবে নির্ধারিত সময়ে তা সম্ভব হয়নি। শুক্রবার লাখ লাখ নথির পাশাপাশি প্রায় দুই হাজার ভিডিও ও এক লাখ ৮০ হাজার ছবি প্রকাশ করা হয়। বিচার বিভাগ জানায়, এ কাজে ৫০০–এর বেশি আইনজীবী ও পর্যালোচক যুক্ত ছিলেন। তবে কিছু ভুক্তভোগী অভিযোগ করেছেন—তাদের তথ্য প্রকাশ পেলেও ক্ষমতাবানদের পরিচয় আড়াল করা হয়েছে।

এক নথিতে দেখা যায়, ট্রাম্পের সাবেক উপদেষ্টা স্টিফেন কে ব্যানন ও এপস্টেইনের মধ্যে টেক্সট বার্তা আদান–প্রদান হয়েছে। সংশ্লিষ্ট একটি ছবিতে ডোনাল্ড ট্রাম্পের মুখ ঢেকে দেওয়া ছিল। গত বছর ট্রাম্প প্রশাসন নথি প্রকাশের ইঙ্গিত দিলেও পরে সরে আসে। এরপর ডেমোক্র্যাট ও কয়েকজন রিপাবলিকান সদস্য মিলে আইন পাসের উদ্যোগ নেন, যাতে ফাইল প্রকাশ বাধ্যতামূলক হয়।

নথিতে আরও দেখা গেছে, মেলানিয়া ট্রাম্পকে নিয়ে নির্মিত নতুন প্রামাণ্যচিত্রের পরিচালক ব্রেট র্যাটনারকে এক তরুণীর সঙ্গে ঘনিষ্ঠ অবস্থায় দেখা যায়—সঙ্গে ছিলেন এপস্টেইন ও আরেক নারী।

২০১৯ সালে নারী পাচারের অভিযোগে বিচারাধীন অবস্থায় কারাগারে মারা যান জেফরি এপস্টেইন। তাকে ঘিরে সংগৃহীত কয়েক লাখ ফাইলের অংশ হিসেবেই এসব নতুন ছবি প্রকাশ করা হয়েছে।

শুক্রবার প্রকাশিত নথিতে ইলন মাস্ক, বিল গেটস, লর্ড পিটার ম্যান্ডেলসন এবং অ্যান্ড্রু মাউন্টব্যাটেন–উইন্ডসরের সঙ্গে এপস্টেইনের সম্পর্কের নতুন তথ্য উঠে এসেছে। প্রিন্স অ্যান্ড্রুর একটি ছবিও রয়েছে, যার কারণে আগেই তার রাজকীয় পদবি প্রত্যাহার করা হয়েছিল।

এছাড়া এপস্টেইনের অর্থে মডেলিং এজেন্সি পরিচালনার অভিযোগ থাকা মডেলিং এজেন্ট জঁ–লুক ব্রুনেলের বিরুদ্ধেও অপ্রাপ্তবয়স্কদের পাচারের অভিযোগ ছিল। ২০২২ সালে প্যারিসের কারাগারে তিনি আত্মহত্যা করেন।

নতুন নথিতে ডোনাল্ড ট্রাম্পের নাম এসেছে কয়েকশ’ বার। ট্রাম্প স্বীকার করেছেন এপস্টেইনের সঙ্গে তার বন্ধুত্ব ছিল, তবে বহু আগেই তা শেষ হয়েছে বলে দাবি করেন।

এপস্টেইন ফাইলসে একটি ই-মেইলে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ২০১৭ সালের ইসরায়েল সফরের উল্লেখ রয়েছে। আর একটি খসড়া ই-মেইলে বিল গেটসের বিরুদ্ধে বিবাহবহির্ভূত সম্পর্কের অভিযোগ তোলা হয়েছে।

আরও বিস্ময়কর তথ্যে জানা যায়, সৌদি আরবের মক্কার পবিত্র কাবা শরিফের গিলাফ (কিসওয়া) কাপড়ের একটি চালান সংযুক্ত আরব আমিরাতের এক নারীর মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রে পাঠানো হয়েছিল, যা পরে এপস্টেইনের কাছে পৌঁছায়।

এদিকে যুক্তরাজ্যে এপস্টেইন কাণ্ডে লেবার পার্টির সদস্যপদ ছেড়েছেন লর্ড পিটার বেঞ্জামিন ম্যান্ডেলসন। তিনি বলেন, অতীত সম্পর্ক নিয়ে ভবিষ্যতে কোনো বিব্রতকর পরিস্থিতি এড়াতেই এই সিদ্ধান্ত।

তথ্যসূত্র: মিডল ইস্ট আই, বিবিসি, নিউইয়র্ক টাইমস।


Share: