আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রস্তুতি হিসেবে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় আনুষ্ঠানিকভাবে তাদের নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা করবে। দলটি এই ইশতেহারের নাম দিয়েছে ‘জনতার ইশতেহার’, যা ২৬ দফার প্রতিশ্রুতির সমষ্টি হিসেবে পরিচিত। ২০২৬ সালের এই ইশতেহারকে তারা সম্বোধন করেছেন ‘ছাব্বিশে ছাব্বিশ’।
জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও নির্বাচন পরিচালনা কমিটির প্রধান এহসানুল মাহবুব জুবায়ের বলেন, “আমাদের লক্ষ্য একটি জনবান্ধব, বাস্তবসম্মত এবং জবাবদিহিমূলক নির্বাচনী ইশতেহার প্রণয়ন। এই ইশতেহারের মাধ্যমে মানুষের জন্য সাম্য, ন্যায় ও অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়ন নিশ্চিত করা হবে। সকলকে নিয়ে এগিয়ে যাওয়াই আমাদের মূল লক্ষ্য।”
তিনি আরও জানান, ইশতেহারটি তিনটি মৌলিক স্তম্ভের ওপর তৈরি করা হয়েছে:
নাগরিক অংশগ্রহণ: মানুষ অনলাইন ও ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে নিজেদের মতামত প্রকাশ করতে পারবে।
প্রযুক্তিনির্ভর বিশ্লেষণ: সংগৃহীত মতামত শ্রেণিবিন্যাস, মূল্যায়ন এবং অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে অনলাইনে প্রকাশ করা হবে।
তথ্যভিত্তিক সিদ্ধান্ত: সিদ্ধান্ত প্রক্রিয়ার প্রতিটি ধাপ তথ্যভিত্তিক ও স্বচ্ছ হবে।
শিক্ষা, স্বাস্থ্য, ব্যবসা এবং নারীর ক্ষমতায়ন ইশতেহারের প্রধান অঙ্গ। বিনামূল্যে শিক্ষার ব্যবস্থা এবং মেধাবীদের বিদেশে উচ্চশিক্ষার সুযোগ দেওয়ার প্রতিশ্রুতি থাকবে। বিশ্ববিদ্যালয় থেকে উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীদের দক্ষতা উন্নয়নে কার্যকর প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে, যাতে কেউ শিক্ষাগত যোগ্যতা সাপেক্ষে বেকার না থাকে।
স্বাস্থ্যখাতে অগ্রাধিকার দিয়ে প্রতিটি বিভাগীয় শহরে আধুনিক যন্ত্রপাতিসহ বিশেষায়িত চিকিৎসা কেন্দ্র স্থাপন করা হবে, যাতে রোগীদের ঢাকায় আসতে না হয় এবং ঢাকার হাসপাতালগুলোর উপর চাপ কমে।
ব্যবসায়িক ক্ষেত্রে জটিলতা ও ঝামেলা কমিয়ে একটি বন্ধুত্বপূর্ণ পরিবেশ সৃষ্টি করা হবে। নারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে এবং তাদের শিক্ষিত ও দক্ষ জনশক্তিতে রূপান্তর করার উদ্যোগ নেওয়া হবে।