Chief TV - Leading online news portal of Bangladesh.

collapse
Home / বিনোদন / পটুয়াখালী গিয়ে কেন কান্নায় ভেঙে পড়েছিলেন শাকিরা - Chief TV

পটুয়াখালী গিয়ে কেন কান্নায় ভেঙে পড়েছিলেন শাকিরা - Chief TV

2026-06-25  ডেস্ক রিপোর্ট  37 views
পটুয়াখালী গিয়ে কেন কান্নায় ভেঙে পড়েছিলেন শাকিরা - Chief TV
বিশ্বকাপ এলেই ‘ওয়াকা ওয়াকা’ ও ‘লা লা লা’ গানের মাধ্যমে নতুন করে আলোচনায় আসেন ল্যাটিন পপ তারকা Shakira। তবে অনেকেরই অজানা, প্রায় দুই দশক আগে তিনি নীরবে বাংলাদেশ সফরে এসে ঘূর্ণিঝড় সিডরে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছিলেন এবং দুর্গত শিশুদের গল্প শুনে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েছিলেন।

২০০৭ সালের নভেম্বরে প্রলয়ঙ্করী Cyclone Sidr বাংলাদেশের উপকূলীয় অঞ্চলে ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ চালায়। ওই দুর্যোগের পর UNICEF-এর বৈশ্বিক শুভেচ্ছাদূত হিসেবে তিন দিনের সফরে বাংলাদেশে আসেন শাকিরা। ২০০৭ সালের ১৬ ডিসেম্বর রাতে ঢাকায় পৌঁছানোর পর রাজধানীতে বেশি সময় না কাটিয়ে তিনি ছুটে যান দুর্গত দক্ষিণাঞ্চলের মানুষের কাছে।

সফরের দ্বিতীয় দিনে তিনি Patuakhali-এর সিডর-আক্রান্ত এলাকা পরিদর্শন করেন। সেখানে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার ও শিশুদের সঙ্গে সময় কাটান, তাদের দুর্ভোগের কথা শোনেন এবং মানবিক সহায়তার প্রয়োজনীয়তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন।

সফরের সবচেয়ে আবেগঘন মুহূর্ত ছিল সিডরে মা-বাবাকে হারানো ১১ বছর বয়সী নিপা নামের এক শিশুর সঙ্গে তার সাক্ষাৎ। শিশুটির কণ্ঠে মাকে উদ্দেশ করে গাওয়া একটি শোকের গান শুনে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন শাকিরা। পরে তিনি স্মৃতিচারণ করে বলেন, সেই গান ও শিশুটির কণ্ঠ তিনি কখনও ভুলতে পারবেন না।

দুর্যোগের ভয়াবহতা দেখে শাকিরা বলেছিলেন, পুরো গ্রাম নিশ্চিহ্ন হয়ে যাওয়ার দৃশ্য তাকে গভীরভাবে নাড়া দিয়েছে। মানুষের সবকিছু হারিয়ে ফেলার বেদনা এবং সন্তানহারা মায়েদের কান্না তাকে মর্মাহত করেছিল। তবে ধ্বংসস্তূপের মাঝেও শিশুদের হাসি, খেলাধুলা এবং ভবিষ্যৎ নিয়ে তাদের স্বপ্ন তাকে আশার আলো দেখিয়েছিল।

বাংলাদেশ সফরের অংশ হিসেবে তিনি Rajshahi-তেও ইউনিসেফের একটি প্রকল্প পরিদর্শন করেন এবং সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের জন্য পরিচালিত বিভিন্ন কার্যক্রম সম্পর্কে খোঁজখবর নেন।

শিশুদের কল্যাণে কাজ করার বিষয়ে শাকিরার আগ্রহ দীর্ঘদিনের। মাত্র ১৮ বছর বয়সে তিনি Pies Descalzos Foundation প্রতিষ্ঠা করেন। নিজ দেশের দরিদ্র শিশুদের দুরবস্থা দেখে অনুপ্রাণিত হয়েই তিনি এই উদ্যোগ নিয়েছিলেন।

ইউনিসেফ কর্মকর্তাদের মতে, শাকিরার বাংলাদেশ সফরটি ছিল অনেকটাই প্রচারবিমুখ। তার নিজের ইচ্ছাতেই সফরটি সীমিত পরিসরে রাখা হয়েছিল। প্রচারণার চেয়ে বাংলাদেশের সাধারণ মানুষের জীবনযাপন এবং শিশুদের বাস্তবতা কাছ থেকে জানতেই তিনি বেশি আগ্রহী ছিলেন।

বাংলাদেশ সফর শেষে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি আহ্বান জানিয়ে শাকিরা বলেছিলেন, বাংলাদেশের শিশু ও দুর্যোগপীড়িত মানুষের প্রতি আরও বেশি মনোযোগ প্রয়োজন এবং সম্মিলিত উদ্যোগেই তাদের পাশে দাঁড়ানো সম্ভব।

বিশ্বকাপের উন্মাদনার সময়ে যখন বিশ্বজুড়ে শাকিরার গান ও গ্ল্যামার নিয়ে আলোচনা চলছে, তখন বাংলাদেশের অনেকের কাছেই অজানা রয়ে গেছে তার এই মানবিক অধ্যায়—যেখানে তিনি পটুয়াখালীর দুর্গত শিশুদের গল্প হৃদয়ে ধারণ করে বাংলাদেশ ছেড়েছিলেন।

 

Share: