জয়পুরহাটের আক্কেলপুর পৌরসভার ৫ ও ৬ নম্বর ওয়ার্ডের মহল্লাবাসীর ব্যানারে ভোটকেন্দ্র পুনর্বহালের দাবিতে মানববন্ধন করেছে স্থানীয় ভোটাররা। মঙ্গলবার বেলা ১১ টার দিকে উপজেলা পরিষদের সামনে প্রধান সড়কে শতাধিক ভোটারদের অংশগ্রহণে ঘন্টাব্যাপী এই মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। পরে তারা ভোট কেন্দ্র পরিবর্তন দাবি করে উপজেলা নির্বাহী অফিসার বরাবর একটি লিখিত আবেদনপত্র দাখিল করেন।
বিগত ২০২৪ সালে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তৎকালীন আওয়ামীলীগ সরকার লোক সমাগম বেশী দেখাতে ৩টি ভোট কেন্দ্র একত্র করে। ভোটকেন্দ্র সরিয়ে দেওয়ায় ৫ ও ৬ নম্বর ওয়ার্ডের সাধারণ ভোটাররা ভোগান্তির চরম ভোগান্তিতে পড়বে বলে তারা অভিযোগ করেন। পরে হাস্তাবসন্তপুর শাহ্ মাখদুম সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ৫ ও ৬ নম্বর ওয়ার্ডে পুনরায় ভোটকেন্দ্র পুনর্বহালের দাবি করেন তারা। অন্যথায় কঠোর কর্মসূচীর হুশিয়ারী দেওয়া হয়।
উপজেলা নির্বাচন অফিস সূত্রে জানা গেছে, ৫ নম্বর ওয়ার্ডে ১ হাজার ৯ শত ৯৫ জন এবং ৬ নম্বর ওয়ার্ডে ২ হাজার ৬ শত ৮৩ জন ভোটার রেয়েছে।
মানববন্ধনে অংশ নেওয়া ভোটাররা অভিযোগ করেন, বিগত আওয়ামীলীগ সরকারের আমলে ২০২৪ সালে দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোট কেন্দ্রে লোকসমাগম বেশি দেখাতে ৫ ও ৬ নম্বর ওয়ার্ডের ভোটকেন্দ্র হাস্তাবসন্তপুর শাহ্ মাখদুম সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে সরিয়ে আক্কেলপুর সরকারি এফইউ পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ে ৪,৫ ও ৬ নম্বর ওয়ার্ড একত্র করে দেওয়া হয়। এতে ৫ ও ৬ নম্বর ওয়ার্ডের দুরের ভোটাররা বিপাকে পড়ে। বিশেষ করে নারী, প্রবীণ, প্রতিবন্ধী ও অসুস্থ ভোটারদের জন্য এই সিদ্ধান্ত অমানবিক বলে তারা দাবি করেন। স্থানীয়দের মতামত না নিয়ে একতরফাভাবে এমন গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন বক্তারা।
এসময় বক্তব্য রাখেন, আক্কেলপুর পৌরসভার সাবেক মেয়র আলমগীর চৌধুরী বাদশা, ৬ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর রফিকুল ইসলাম চপল, ১ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর আব্দুর রউফ মাজেদ, ৫ নম্বর ওয়ার্ডের ভোটার তরিকুল ইসলাম তুহিন।
মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, ভোট আমাদের মৌলিক অধিকার। অথচ কেন্দ্র দূরে নিয়ে যাওয়ায় আমাদের ভোটাধিকার কার্যত বাধাগ্রস্ত হবে। নির্বাচনের আগে দ্রুত ৫ ও ৬ নম্বর ওয়ার্ডের ভোট কেন্দ্র হাস্তাবসন্তপুর শাহ্ মাখদুম সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পুনর্বহাল একান্ত প্রয়োজন।
কামরুজ্জামান মিলন নামের স্থানীয় ভোটার বলেন, ভোটকেন্দ্র স্থানান্তরিত হওয়ায় তাদের একাংশকে এখন দূরবর্তী এলাকায় গিয়ে ভোট দিতে হবে, যা নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং যাতায়াত সমস্যার কারণে অনেকেই ভোট দেওয়া থেকে বিরত থাকতে পারে। ফলে সংশ্লিষ্ট দুই ওয়ার্ডের ভোটের উপস্থিতি কমে যাওয়ার বাস্তব আশঙ্কা রয়েছে।
পাপুল বেগম নামের এক নারী ভোটার অভিযোগ করে বলেন, ভোট কেন্দ্র পরিবর্তন হওয়াই আমরা বাড়ির কাছের কেন্দ্রে ভোট দিতে পারবো না। এতে আমাদের কিছুটা দূরে গিয়ে ভোট দিতে হবে। ভোট কেন্দ্র দূরে হওয়াই আমরা নারীরা এবং বংস্ক ভোটাররা চরম ভোন্তিতে পড়বে। ভোট কেন্দ্র দ্রুত আগের যায়গায় ফিরে নেওয়ার প্রশাসনের কাছে অনুরোধ রইল।
উপজেলা নির্বাচন অফিসার মেহেদী হাসান বলেন, ইতোমধ্যে ভোট কেন্দ্র চুড়ান্ত করে ফেলেছে নির্বাচন কমিশন। তবে এখনো গেজেট আকারে প্রকাশ হয়নি। সরাসরি নির্বাচন কমিশনে বিষয়টি লিখিতভাবে জানালে তারা প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবেন।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার ফারজানা জান্নাত বলেন, ভোট কেন্দ্র পরিবর্তনের বিষয়ে আমি একটি লিখিত আবেদন পত্র পেয়েছি। আমি গত কাল এই উপজেলায় যোগদান করেছি। আমি খোঁজ নিয়ে বিষয়টি দেখবো।