আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সারা দেশে যেমন নির্বাচনী হাওয়া বইছে, তার ব্যতিক্রম নয় গাজীপুর–২ আসনও। সময় যত এগোচ্ছে, ততই স্পষ্ট হচ্ছে—এই আসনে ধানের শীষের প্রার্থী এম মঞ্জুরুল করিম রনি বিজয়ের দোরগোড়ায় পৌঁছে গেছেন বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।
গাজীপুর–২ আসনে এবার মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতায় রয়েছেন তিনজন প্রার্থী। বিএনপির মনোনীত প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন গাজীপুর মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক, সাবেক মন্ত্রী, সংসদ সদস্য ও মেয়র এম মান্নানের ছেলে এম মঞ্জুরুল করিম রনি। অপরদিকে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীসহ ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী হিসেবে এনসিপি নেতা আলী নাসির খান শাপলা কলি প্রতীক নিয়ে নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন। এছাড়া বাংলাদেশ ইসলামী আন্দোলনের মনোনীত প্রার্থী হিসেবে হাতপাখা প্রতীকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন হানিফ।
নির্বাচনের শুরুতে শাপলা কলি প্রতীকের পক্ষে জামায়াতের নেতাকর্মীদের প্রচারণা তুলনামূলকভাবে জোরালো ছিল। বাড়ি বাড়ি গিয়ে ভোটারদের কাছে ভোট চাওয়ার কার্যক্রমও ছিল চোখে পড়ার মতো। সে সময় ধানের শীষের প্রার্থী এম মঞ্জুরুল করিম রনির পক্ষে দলীয় নেতাকর্মীদের তেমন দৃশ্যমান প্রচারণা লক্ষ্য করা যায়নি।
তবে বর্তমানে পরিস্থিতি পুরোপুরি বদলে গেছে। এখন গাজীপুর–২ আসনে ধানের শীষের পক্ষে বিএনপির নেতাকর্মীরা জোরালোভাবে মাঠে নেমেছেন। ভোটারদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে ভোট চাওয়া হচ্ছে এবং মাঠপর্যায়ে ব্যাপক নির্বাচনী কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। স্থানীয় সূত্র ও মাঠ পর্যায়ের খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ভোটারদের কাছ থেকে ধানের শীষ প্রতীকের পক্ষে ব্যাপক সাড়া পাওয়া যাচ্ছে।
বর্তমানে ধানের শীষের প্রচারণা এতটাই জোরালো যে, তার তুলনায় জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোটের দুই প্রার্থীর পক্ষে উল্লেখযোগ্য কোনো দৃশ্যমান প্রচারণা দেখা যাচ্ছে না। যদিও শাপলা কলি প্রতীকের প্রার্থী সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভিডিও বার্তার মাধ্যমে নির্বাচনী অনিয়মসহ বিভিন্ন বিষয় তুলে ধরে জনসচেতনতা তৈরির চেষ্টা করছেন।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ধানের শীষের প্রার্থী এম মঞ্জুরুল করিম রনির মতো শক্তিশালী প্রার্থীর বিপরীতে জামায়াতের আরও শক্তিশালী প্রার্থী দেওয়া প্রয়োজন ছিল। তারা আরও বলেন, বর্তমানে গাজীপুর–২ আসনে রনির পক্ষে যেভাবে জোরালো প্রচারণা ও নির্বাচনী কার্যক্রম চলছে, তা যদি আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত অব্যাহত থাকে, তবে রনির বিজয়ের সম্ভাবনা প্রায় শতভাগ—৯৯ দশমিক ৯ শতাংশ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট মহল।