ফেনীর সোনাগাজীতে নির্বাচনী প্রচারের নামে কোরআন শরীফ ব্যবহার করে ভোট চাওয়ার অভিযোগকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, মহিলা জামায়াতের কয়েকজন নেতাকর্মী কোরআন শরীফ ছুঁয়ে শপথ করিয়ে নির্দিষ্ট প্রতীকে ভোট দেওয়ার অঙ্গীকার আদায়ের চেষ্টা করেছেন। তবে জামায়াত পক্ষ এ অভিযোগ অস্বীকার করে জানিয়েছে, তারা নিয়মিত কোরআন শিক্ষার কার্যক্রম পরিচালনা করছিলেন।
সোমবার (১২ জানুয়ারি) বিকেলে সোনাগাজী পৌরসভার ৮ নম্বর ওয়ার্ডে পৌর জামায়াত নেতা কাশেম মিয়ার বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে। অভিযোগ অনুযায়ী, ওই বাড়িতে মহিলা জামায়াতের কয়েকজন নেতাকর্মী আশপাশের কিছু নারীকে কোরআন শিক্ষার দাওয়াত দিয়ে সমবেত করেন। পরে কোরআন শরীফ ছুঁয়ে দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে ভোট দেওয়ার শপথ করানো হয় বলে দাবি করা হয়।
একপর্যায়ে সেখানে উপস্থিত কয়েকজন নারী স্থান ত্যাগ করতে চাইলে তাদের বাধা দেওয়া হয় বলেও অভিযোগ রয়েছে। এতে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে ওই নারীরা স্বজনদের ফোন করে সহযোগিতা চান। খবর পেয়ে স্থানীয় যুবদলের কয়েকজন নেতাকর্মী ঘটনাস্থলে পৌঁছান।
যুবদল নেতাকর্মীদের অভিযোগ, কোরআন শিক্ষার আড়ালে ধর্মীয় অনুভূতিকে ব্যবহার করে ভোট আদায়ের চেষ্টা করা হয়েছে এবং জান্নাত–জাহান্নামের ভয় দেখিয়ে ভোটের প্রতিশ্রুতি নেওয়ার চেষ্টা চলে।
এ ঘটনায় যুবদলের স্থানীয় নেতারা এটিকে নির্বাচনি আচরণবিধির সুস্পষ্ট লঙ্ঘন বলে দাবি করেন। যুবদল নেতা নুর আলম জিকু, এনাম ও ইকবালসহ অন্যান্য নেতাকর্মীরা বলেন, ধর্মীয় অনুষঙ্গ ব্যবহার করে ভোট চাওয়া কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।
অন্যদিকে মহিলা জামায়াতের নেতারা দাবি করেন, সেখানে কোনো রাজনৈতিক প্রচারণা হয়নি। তারা নিয়মিত কোরআন শিক্ষার ক্লাস পরিচালনা করছিলেন এবং এতে বাধা দিয়েছে যুবদলের নেতাকর্মীরা।
পরে স্থানীয় পৌর ওয়ার্ড জামায়াতের সভাপতি নূরনবী ঘটনাস্থলে গিয়ে উভয় পক্ষের সঙ্গে কথা বলেন এবং পরিস্থিতি শান্ত করেন।
এ বিষয়ে সোনাগাজী উপজেলা যুবদল সভাপতি খুরশিদ আলম ভূঁঞা বলেন, কোরআন শিক্ষার নামে ভোট চাওয়ার ঘটনা অত্যন্ত দুঃখজনক। কোরআন কোনো রাজনৈতিক দলের সম্পত্তি নয়।
সোনাগাজী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কামরুল হাসান জানান, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে উভয় পক্ষের সঙ্গে কথা বলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। বিষয়টি স্থানীয়ভাবে মীমাংসা করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।