Chief TV - Leading online news portal of Bangladesh.

collapse
Home / রাজশাহী বিভাগ / সারাদেশ / জয়পুরহাট / জয়পুরহাট-১ আসনে ত্রিমুখী লড়াই: বিএনপি-জামায়াতের শক্তির সমীকরণে ‘ফ্যাক্টর’ হয়ে উঠছেন স্বতন্ত্র প্রার্থী শিখা - Chief TV

জয়পুরহাট-১ আসনে ত্রিমুখী লড়াই: বিএনপি-জামায়াতের শক্তির সমীকরণে ‘ফ্যাক্টর’ হয়ে উঠছেন স্বতন্ত্র প্রার্থী শিখা - Chief TV

2026-02-11  আরিফুল ইসলাম (জয়পুরহাট প্রতিনিধি)  155 views
জয়পুরহাট-১ আসনে ত্রিমুখী লড়াই: বিএনপি-জামায়াতের শক্তির সমীকরণে ‘ফ্যাক্টর’ হয়ে উঠছেন স্বতন্ত্র প্রার্থী শিখা - Chief TV

জয়পুরহাট-১ (জয়পুরহাট সদর ও পাঁচবিবি) আসনে আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন ঘিরে রাজনৈতিক মাঠে স্পষ্ট হচ্ছে উত্তাপ। এক সময় যাকে একমুখী বা দ্বিমুখী প্রতিদ্বন্দ্বিতার আসন হিসেবে ধরা হতো, সেখানে এবার দৃশ্যমান হচ্ছে ত্রিমুখী লড়াই। বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী ও স্বতন্ত্র প্রার্থীর শক্তির সমীকরণে ভোটের অঙ্ক জটিল আকার ধারণ করছে।

‎এই আসনে মোট ভোটার প্রায় চার লক্ষাধিক। গ্রামীণ ভোটারই এখানে মূল নিয়ামক। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সামান্য ভোট বিভাজনই ফলাফল পাল্টে দিতে পারে।

‎জয়পুরহাট-১ আসন ঐতিহাসিকভাবে বিএনপির শক্ত অবস্থানের এলাকা হিসেবে পরিচিত। দলটির রয়েছে দীর্ঘদিনের সংগঠন, মাঠপর্যায়ের কর্মী কাঠামো এবং গ্রামীণ ভোটব্যাংক। স্থানীয় পর্যায়ে দলীয় প্রার্থীর গ্রহণযোগ্যতাও তুলনামূলক ভালো বলে জানা যাচ্ছে।

‎তবে রাজনৈতিক বাস্তবতায় এবার বিএনপির জন্য চ্যালেঞ্জও কম নয়। স্বতন্ত্র প্রার্থী ও জামায়াতের শক্ত অবস্থান বিএনপির ভোটকে ভাগ করে দিতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। বিশেষ করে সিদ্ধান্তহীন ও ফ্লোটিং ভোটারদের বড় একটি অংশ এবার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

‎জামায়াতে ইসলামী এই আসনে দীর্ঘদিন ধরে একটি নির্দিষ্ট ভোটব্যাংক ধরে রেখেছে। দলটির সাংগঠনিক কাঠামো শক্ত এবং ধর্মভিত্তিক সমর্থকদের একটি নির্ভরযোগ্য অংশ রয়েছে। নির্বাচনী প্রচারণায় তারা নৈতিকতা, শাসনব্যবস্থা ও ধর্মীয় মূল্যবোধকে সামনে আনছে।

‎তবে সামগ্রিক ভোটের হিসাবে জামায়াত এখনো শীর্ষে পৌঁছাতে পারবে কি না, তা নিয়ে সংশয় রয়েছে। মূলত বিএনপি ও স্বতন্ত্র প্রার্থীর ভোট কাটাকাটির ওপরই তাদের সম্ভাবনা অনেকটা নির্ভর করছে।


‎এই নির্বাচনে সবচেয়ে আলোচিত নাম স্বতন্ত্র প্রার্থী সাবেকুন নাহার শিখা। স্থানীয় রাজনীতিতে পরিচিত মুখ হওয়ায় তিনি এলাকায় একটি আলাদা গ্রহণযোগ্যতা তৈরি করেছেন। উন্নয়ন, স্থানীয় সমস্যা ও ব্যক্তিগত যোগাযোগকে পুঁজি করে তিনি নিজস্ব ভোটকাস্ট গড়ার চেষ্টা করছেন।

‎রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, শিখা যদি উল্লেখযোগ্য সংখ্যক ভোট পান, তাহলে তার প্রভাব সরাসরি বিএনপি ও জামায়াতের ওপর পড়বে। বিশেষ করে বিএনপির ঐতিহ্যগত ভোটব্যাংকের একটি অংশ এবং জামায়াতের কিছু নরম সমর্থক তার দিকে ঝুঁকতে পারেন। এতে মূল দুই দলের ফলাফলে বড় পরিবর্তন আসতে পারে।

‎বর্তমান পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, বিএনপি এখনো সামগ্রিক হিসেবে এগিয়ে, তবে নিশ্চিত নয়,জামায়াত সংগঠিত ভোটের কারণে শক্ত অবস্থান ধরে রেখেছে,স্বতন্ত্র প্রার্থী শিখা ভোট ভাগ করে দিয়ে নির্বাচনের ফল অনিশ্চিত করে তুলছেন।

‎সব মিলিয়ে জয়পুরহাট-১ আসনে ভোটের শেষ হিসাব নির্ভর করবে শেষ মুহূর্তের প্রচারণা, ভোটার উপস্থিতি এবং ফ্লোটিং ভোটারদের সিদ্ধান্তের ওপর।

‎জয়পুরহাট-১ আসনে আসন্ন নির্বাচন স্পষ্টভাবেই ত্রিমুখী লড়াইয়ে রূপ নিয়েছে। বিএনপি ও জামায়াতের মধ্যকার মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতায় স্বতন্ত্র প্রার্থী সাবেকুন নাহার শিখা একটি গুরুত্বপূর্ণ ফ্যাক্টর হয়ে উঠেছেন। ভোট বিভাজন হলে ফলাফল নাটকীয়ভাবে পাল্টে যেতে পারে। তাই শেষ পর্যন্ত জয় কার হাতে যাবে, তা জানতে ভোটের দিন পর্যন্ত অপেক্ষা ছাড়া বিকল্প নেই।


Share: