নওগাঁ জেলার মহাদেবপুর উপজেলার ১০ নম্বর ভীমপুর ইউনিয়নের শিকারপুর মৌজার বেলি ব্রিজ এলাকায় অনুষ্ঠিত হয়েছে শতবর্ষী ঐতিহ্যবাহী হিন্দু বাঘা মেলা। ভীম একাদশী উপলক্ষে গত ১৫ মাঘ ভূতনাথ বাবার ধামে খেপি বসানোর মধ্য দিয়ে শুরু হয় এই মেলা।
এ উপলক্ষে ভূতনাথ বাবার দর্শন, ভক্তদের সেবা ও পারণ অনুষ্ঠিত হয়। চাল-ডাল ও ভোগ-রাগ নিবেদন শেষে হাজারো ভক্তের মাঝে খিচুড়ি প্রসাদ বিতরণ করা হয়।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন মহাদেবপুর উপজেলার ১০ নম্বর ভীমপুর ইউনিয়নের জনপ্রিয় বিএনপি নেতা ও একটানা নির্বাচিত চেয়ারম্যান শ্রী রামভদ্রসহ স্থানীয় নেতাকর্মীরা। তারা মেলার বিভিন্ন দোকানপাট ঘুরে দর্শনার্থীদের সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন।
আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়, মাঘ মাসের পূর্ণিমার দিবাগত রাতে দেবের দেব মহাদেব বাবার উদ্দেশে বিশেষ চুলা পূজা অনুষ্ঠিত হয়। এ সময় সাতটি নিখুঁত পাতিলে রান্না করা ভোগ নিবেদন করা হয়। ফলমূল, গজার মাছ ভাজা-পোড়াসহ নানা ধরনের খাবারের সাতটি পারষ নিয়ে ভূতের রাজা ও চেলা চামুন্ডাসহ দেবতাদের সেবা করা হয়।
এই মেলাকে ঘিরে আশপাশের ইউনিয়ন ও উপজেলা জুড়ে উৎসবের আমেজ ছড়িয়ে পড়েছে। একাধিক সূত্র জানায়, প্রায় পাঁচশ বছর আগে থেকে ভূতনাথ সন্ন্যাস পূজা উপলক্ষে ব্যক্তিমালিকানাধীন জমিতে সপ্তাহব্যাপী এই ঐতিহ্যবাহী মেলার আয়োজন হয়ে আসছে।
প্রতি বছর বাংলা সনের মাঘ মাসের শেষ বা ফাল্গুন মাসের প্রথম সপ্তাহে ভীম একাদশীতে মেলাটি অনুষ্ঠিত হয়। মেলাকে কেন্দ্র করে রানীপুকুর, শিকারপুর, বলিহার, ভীমপুর, ফারাতপুর, পয়না, নিন্দয়, মৈনম, মনারপুর, শ্যামপুর, চৌমাশিয়া, খদ্দনারায়ণপুর, লক্ষ্মীপুর, গণেশপুর ও গাজীপুরসহ আশপাশের গ্রামের মানুষ উৎসবে মেতে ওঠেন।
তবে এবছর ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের কারণে প্রশাসনের অনুমতিতে মেলাটি সীমিত সময়ের জন্য আয়োজন করা হয়েছে।
পূর্ণিমার রাতে গজার মাছের ভোগকে কেন্দ্র করে ভক্তদের ঢল নামে। ঈদ কিংবা অন্য কোনো উৎসবে আত্মীয়স্বজনকে দাওয়াত না দিলেও এই মেলায় সবাইকে আমন্ত্রণ জানিয়ে আপ্যায়নের রেওয়াজ রয়েছে। তাই ঘরে ঘরে মুড়ি ভাজা, নারকেলের নাড়ু, জিলাপিসহ নানা রকম মিষ্টান্ন তৈরির ধুম পড়ে যায়।
মেলার প্রধান আকর্ষণ হিসেবে রয়েছে ১ থেকে ৫ কেজি ওজনের মাছ, নানা ধরনের মিষ্টি ও জিলাপি। পাশাপাশি বিক্রি হচ্ছে কাঠের তৈরি গোবিন্দের সিংহাসন, বাঁশের ডালা-চালনি-কুলা, বেতের তৈরি ধামা-ঝুড়ি, শিশুদের খেলনা, আচারসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় নানা সামগ্রী।
গ্রামবাংলার ঐতিহ্য, ধর্মীয় বিশ্বাস আর সামাজিক মিলনমেলার অনন্য দৃষ্টান্ত হয়ে প্রতিবছরের মতো এবারও হিন্দু বাঘা মেলা পরিণত হয়েছে মানুষের আনন্দ–উৎসবের মিলনকেন্দ্রে।