শেরপুর–৩ (শ্রীবরদী–ঝিনাইগাতী) আসনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর মনোনীত প্রার্থী নুরুজ্জামান বাদলের মৃত্যুর কারণে ওই আসনের নির্বাচন স্থগিত করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)।
বুধবার নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, নির্বাচন আইন অনুযায়ী কোনো বৈধ প্রার্থীর মৃত্যু হলে সংশ্লিষ্ট আসনের ভোটগ্রহণ সাময়িকভাবে স্থগিত রাখতে হয়। সে অনুযায়ী শেরপুর–৩ আসনের নির্বাচন আপাতত বন্ধ রাখা হয়েছে। পরে নতুন তফসিল ঘোষণা করা হবে।
তিনি আরও বলেন, গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ (আরপিও) ১৯৭২-এর ১৭(১) ধারায় উল্লেখ রয়েছে—মনোনয়ন প্রত্যাহারের সময়সীমা শেষ হওয়ার পর এবং ভোটের আগে কোনো বৈধ প্রার্থী মারা গেলে ওই আসনের নির্বাচনী কার্যক্রম তাৎক্ষণিকভাবে বাতিল বা স্থগিত করতে হবে।
আইনে বলা হয়েছে, প্রার্থীকে অবশ্যই নির্বাচন কমিশনের স্বীকৃত বৈধ প্রার্থী হতে হবে। মৃত্যুর খবর নিশ্চিত হওয়ার পর সংশ্লিষ্ট রিটার্নিং কর্মকর্তা গণবিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে নির্বাচনী কার্যক্রম স্থগিতের ঘোষণা দেবেন এবং পরবর্তী সময়ে কমিশন নতুন তফসিল নির্ধারণ করবে।
তবে আইনে কিছু ব্যতিক্রমের কথাও বলা আছে। যদি কোনো প্রার্থী বৈধ ঘোষণার আগেই মারা যান অথবা একই দলের বিকল্প বৈধ প্রার্থী থাকেন, সে ক্ষেত্রে নির্বাচন স্থগিতের প্রয়োজন পড়ে না।
উল্লেখ্য, মঙ্গলবার দিবাগত রাত আনুমানিক ৩টার দিকে নুরুজ্জামান বাদল ইন্তেকাল করেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। তিনি দীর্ঘদিন কিডনি রোগে ভুগছিলেন। নুরুজ্জামান বাদল জামায়াতে ইসলামীর শেরপুর জেলা শাখার সেক্রেটারি এবং শেরপুর–৩ আসনের মনোনীত প্রার্থী ছিলেন।
জামায়াতে ইসলামীর অফিসিয়াল ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে তার মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়। সেখানে গভীর শোক প্রকাশ করে তার পরিবার-পরিজন ও সহকর্মীদের প্রতি সমবেদনা জানানো হয়।