Chief TV - Leading online news portal of Bangladesh.

collapse
Home / জাতীয় / ভোটে আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় ৩৮ নির্দেশনা সরকারের - Chief TV

ভোটে আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় ৩৮ নির্দেশনা সরকারের - Chief TV

2026-01-12  ডেস্ক রিপোর্ট  53 views
ভোটে আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় ৩৮ নির্দেশনা সরকারের - Chief TV

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। এর আগেই সারাদেশে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মোতায়েনের প্রস্তুতি শুরু হয়েছে। সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন নিশ্চিত করতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীগুলোর জন্য ৩৮ দফা নির্দেশনা জারি করেছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

ভোটকেন্দ্র, ভোটার এবং ভোটগ্রহণের আগে ও পরে কোন বাহিনী কী দায়িত্ব পালন করবে—সে বিষয়ে লিখিত নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে নির্বাচনসংক্রান্ত জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ একটি বিশেষ টিম গঠনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বৈধ অস্ত্র বহন ও প্রদর্শন নিয়ন্ত্রণে পৃথক নির্দেশনা জারির উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট সূত্র।

সূত্র জানায়, নির্বাচনের সময় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে প্রয়োজনে বিজিবি ও র‌্যাবকে হেলিকপ্টার, ড্রোন ও ডগ স্কোয়াড ব্যবহারের অনুমতি দেওয়া হয়েছে। দুর্গম ও পার্বত্য এলাকায় ভোটকেন্দ্রের নিরাপত্তা, নির্বাচনী কর্মকর্তা ও নির্বাচনী সরঞ্জাম পরিবহনে হেলিকপ্টার ব্যবহারের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে সশস্ত্র বাহিনী বিভাগকে। উপকূলীয় এলাকায় নৌবাহিনী ও কোস্ট গার্ড এবং সীমান্তবর্তী উপজেলাগুলোতে বিজিবি বিশেষ দায়িত্ব পালন করবে।

পুলিশ সদর দপ্তরের এআইজি (মিডিয়া অ্যান্ড পিআর) এএইচএম শাহাদাত হোসাইন জানিয়েছেন, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী পুলিশ নির্বাচনী দায়িত্ব পালন করবে। সুষ্ঠু ভোট নিশ্চিত করতে পুলিশের বিশেষ অভিযান চলমান রয়েছে এবং নির্বাচনী প্রশিক্ষণ প্রায় শেষ পর্যায়ে।

নির্দেশনা অনুযায়ী, মেট্রোপলিটন এলাকার বাইরে সাধারণ ভোটকেন্দ্রে ১৭ জন এবং গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রে ১৮ জন পুলিশ ও আনসার সদস্য মোতায়েন থাকবে। মেট্রোপলিটন এলাকায় সাধারণ কেন্দ্রে ১৬ জন ও গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রে ১৭ জন দায়িত্ব পালন করবেন। পার্বত্য ও দুর্গম অঞ্চলেও সাধারণ কেন্দ্রে ১৭ জন এবং গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রে ১৮ জন সদস্য নিয়োজিত থাকবেন। প্রতিটি ভোটকেন্দ্রে প্রিসাইডিং অফিসারের নিরাপত্তায় একজন অস্ত্রধারী আনসার সদস্য থাকবেন।

সশস্ত্র বাহিনী রিটার্নিং অফিসারের সঙ্গে সমন্বয় করে প্রয়োজন অনুযায়ী দেশজুড়ে মোতায়েন হবে। তারা টহল, মোবাইল ও স্ট্রাইকিং ফোর্স হিসেবে দায়িত্ব পালন করবে এবং প্রয়োজনে নির্দিষ্ট ভোটকেন্দ্র বা কেন্দ্রগুচ্ছের নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে। উপকূলীয় এলাকায় নৌবাহিনী এবং কোস্ট গার্ড যৌথভাবে দায়িত্ব পালন করবে। পরিস্থিতি অনুযায়ী সড়ক ও মহাসড়কে চেকপোস্ট এবং যৌথ অভিযান পরিচালনা করা হবে। বিমান বাহিনী প্রয়োজন অনুযায়ী হেলিকপ্টার ও পরিবহন বিমান সহায়তা দেবে।

বাংলাদেশ পুলিশ ভোটকেন্দ্রের ভেতর ও বাইরে শান্তিশৃঙ্খলা রক্ষা, ভোটারদের জন্য নিরাপদ পরিবেশ সৃষ্টি, নির্বাচনী সরঞ্জাম ও কর্মকর্তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে। সংবেদনশীল কেন্দ্রগুলোতে দায়িত্বপ্রাপ্ত পুলিশ সদস্যদের একজন বডি-ওর্ন ক্যামেরা ব্যবহার করবেন।

বিজিবি, কোস্ট গার্ড, আর্মড পুলিশ ও আনসার ব্যাটালিয়ন মোবাইল ও স্ট্রাইকিং ফোর্স হিসেবে কাজ করবে। সীমান্ত ও উপকূলীয় এলাকায় তারা বিশেষ দায়িত্ব পালন করবে এবং প্রয়োজনে যৌথ বাহিনীর অভিযানে অংশ নেবে।

র‌্যাব আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে মোবাইল ও স্ট্রাইকিং ফোর্স হিসেবে দায়িত্ব পালন করবে। প্রয়োজনে হেলিকপ্টার, ড্রোন ও ডগ স্কোয়াড ব্যবহার করা যাবে।

আনসার ও ভিডিপি অন্যান্য বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় করে ভোটকেন্দ্রে শৃঙ্খলা রক্ষা, ভোটারদের লাইন ব্যবস্থাপনা এবং প্রিসাইডিং অফিসারের নির্দেশনা বাস্তবায়নে কাজ করবে।

নির্বাচনকালে বৈধ অস্ত্র বহন ও প্রদর্শন নিষিদ্ধ করার নির্দেশনা জারি করা হচ্ছে। তবে নির্বাচন কমিশনে বৈধভাবে মনোনয়ন জমা দেওয়া সংসদ সদস্য প্রার্থীদের অনুমোদিত সশস্ত্র রিটেইনারদের ক্ষেত্রে এই নিষেধাজ্ঞা প্রযোজ্য হবে না।

এ ছাড়া আগামী ১৬ জানুয়ারি চালু হচ্ছে ‘নির্বাচন সুরক্ষা ২০২৬’ অ্যাপ। এই অ্যাপের মাধ্যমে ভোটকেন্দ্রে দায়িত্বপ্রাপ্ত আনসার সদস্যরা যেকোনো পরিস্থিতির তথ্য তাৎক্ষণিকভাবে সংশ্লিষ্ট বাহিনীকে জানাতে পারবেন, যাতে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া যায়।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, নির্বাচনসংক্রান্ত কোনো তথ্য ৯৯৯-এ এলে বিশেষ টিম তাৎক্ষণিকভাবে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বা সংশ্লিষ্ট আইনশৃঙ্খলা সমন্বয় সেলকে জানাবে এবং দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া হবে।


Share: