বাংলা বর্ষপঞ্জির হিসাব অনুযায়ী আজ ঋতুরাজ বসন্তের প্রথম দিন ‘পহেলা ফাল্গুন’। অন্যদিকে ইংরেজি ক্যালেন্ডারের পাতার হিসাবে ১৪ ফেব্রুয়ারি ‘ভ্যালেনটাইনস ডে’ তথা বিশ্ব ভালোবাসা দিবস। আজ বিশ্বজুড়ে কেবল ‘ভ্যালেনটাইনস ডে’ উদযাপিত হলেও ষড়ঋতুর বাংলাদেশে ভ্যালেনটাইনস ডে’ ও ‘বসন্তের প্রথম দিন ‘পহেলা ফাল্গুন’, এই দুই উৎসবকে ঘিরে জোড়া উৎসবের আমেজ তৈরি হয়েছে। শীতকে বিদায় জানানোর মধ্য দিয়েই বসন্তবরণে চলবে ধুম আয়োজন। শীত চলে যাবে রিক্তহস্তে, আর বসন্ত আসবে ফুলের ডালা সাজিয়ে। বাসন্তী ফুলের পরশ আর সৌরভে কেটে যাবে শীতের জরাজীর্ণতা। একই সঙ্গে বিশ্ব ভালোবাসা দিবস উপলক্ষ্যে স্বামী-স্ত্রী, বাবা-মা-ভাইবোন, প্রিয় বন্ধুরা মিলিত হবে ভালোবাসার বন্ধনে।
যেভাবে এলো বিশ্ব ভালোবাসা দিবস
ইতিহাসবিদদের মতে, দুটি প্রাচীন রোমান প্রথা থেকে এ উৎসবের সূত্রপাত। এক খ্রিষ্টান পাদ্রি ও চিকিৎসক ফাদার সেন্ট ভ্যালেনটাইনের নামানুসারে দিনটির নাম ‘ভ্যালেনটাইনস ডে’ করা হয়। ২৭০ খ্রিষ্টাব্দের ১৪ ফেব্রুয়ারি খ্রিষ্টানবিরোধী রোমান সম্রাট গথিকাস আহত সেনাদের চিকিৎসার অপরাধে সেন্ট ভ্যালেনটাইনকে মৃত্যুদণ্ড দেন। মৃত্যুর আগে ফাদার ভ্যালেনটাইন তার আদরের একমাত্র মেয়েকে একটি ছোট্ট চিঠি লেখেন, যেখানে তিনি নাম সই করেছিলেন ‘ফ্রম ইওর ভ্যালেনটাইন’। সেন্ট ভ্যালেনটাইনের মেয়ে ও তার প্রেমিক মিলে পরের বছর থেকে বাবার মৃত্যুর দিনটিকে ভ্যালেনটাইনস ডে হিসাবে পালন করা শুরু করেন। যুদ্ধে আহত মানুষকে সেবার অপরাধে মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডিত সেন্ট ভ্যালেনটাইনকে ভালোবেসে দিনটি বিশেষভাবে পালন করার রীতি ক্রমে সারাবিশ্বে ছড়িয়ে পড়ে।